,



শিক্ষা আছে তবে শিক্ষার মুল্য কোথায়

স্বাধীন দেশের স্বাধীন মানুষ হিসেবেই কিছু কথা তুলে ধরতে চাই। অনেক কিছুই ঘটে এ বিচিত্র পৃথিবীতে আমাদের সাথে, কিন্তু আমরা বুঝি না। অনেকে সময় থাকতে সময় এর মর্ম  বোঝে না, অনেকে দাত থাকতে দাতের মুল্য বুঝে না আর টাকা আছে তারা টাকার মুল্য বোঝে না। এই পৃথিবীতে সব কিছুর জন্য যে টাকার দরকার সেটা আমরা ভালভাবে জানি। আর সেটা যদি পড়াশোনার  জন্য বলা হয় তবে ও বলতে হবে আজকাল টাকা ছাড়া পড়াশোনা ও হয় না। সে আপনি যত যায় বলুন না কেন সেটা হোক প্রস্ন ফাস অথবা বড় প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে। এমনকি বুয়েট হলেই সমস্যা কি?

কিছু উদাহরণ আর কিছু কথা, এবার বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষায় তুহিন আহমেদ ৬৪৫ তম স্থান অধিকার করেছেন। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় তাঁর অবস্থান ৩৮৩। টাকার জন্য তিনি এইসএসসি তে ভাল কলেজে পরতে পারেন নি। এখন তিনি দেশের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠানে চান্সপ্রাপ্ত  হবার পরেও কেন এমন কথা শুনতে হই আমাদের যে, বুয়েটে টাকার অভাবে পড়তে পারছেন না, এত বড় কথা শোনার আগে অন্তত সুশীল সমাজের লজ্জা করা উচিত। আসল মেধা টাকার অভাবে পারে না ভর্তি হতে, আর টাকা দিয়ে কেও আবার  প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে পরে। এইটা তো প্রথম না যে আমরা শুনছি টাকার অভাবে আমাদের দেশে পড়ালেখা আটকে থাকে। বড় বড় মেধা আটকে থাকে টাকার অভাবে।

আমরা প্রায়ই খবরে শুনে থাকি যে, রিক্সা চালকের ছেলে অনেক গরিব ঘর থেকে এসে এসএসসি,এইসএসসিতে জিপিএ- ৫ পাচ্ছেন কিন্তু তারা কতদূরে এগোতে পারছেন প্রশ্ন রয়ে গেল। আবার বলা হতে পারে সরকার তো বৃত্তি দিচ্ছে, উপবৃত্তি দিচ্ছে তবে অর্থ এর চিন্তা কিসের। তবে সেই টাকার কথা যদি বলা হয় তবে সেটার কথা আর নাই বা শুনলেন। অনেক সময় আমাকে প্রশ্ন করা হতে পারে যে আপনিও তো তিনবার বৃত্তি  পেয়েছেন তবে আপনি এর বিরুদ্ধে কেন? সাধারণ চোখ দিয়ে অনেক কিছুই দেখা যায় না। প্রতি বছরে সাড়ে চার হাজার টাকা যা দিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক এর অর্ধেক বই আর কলেজ এর ইউনিফর্ম ও হবে না । তাহলে এটা কি শুধুই সম্মান।

তাহলে এই সম্মান তাদের জন্য কি সহানুভূতি ছাড়া আর কিছু না। তবে এই সম্মান তাদের দিয়ে কি লাভ যদিনা তারা তাদের পরবর্তী পড়াশোনা ঠিকমত চালাতে সক্ষম না। শিক্ষার গুরুত্ব বুঝি, সচেতন হই, আওয়াজ উঠাই। অনেক সময় দেখা যায় যেখানে সরকারকে ব্যবস্থা গ্রহন উচিত, সেখানে এগিয়ে আসছেন সুশীল সমাজের কেউ সমাজসেবার জন্য এগিয়ে আসছেন। একটি উদাহরণ দিয়ে শেষ করতে চাই, “আমিও ঢাবিতে ভর্তি হতে পারিনি- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য ২০ হাজার টাকা সহায়তা করেছেন কুষ্টিয়ার নবাগত পুলিশ সুপার এসএম তানভির আরাফাত পিপিএম। ১ অক্টোবর, সোমবার বেলা ১১টায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে তিনি নাজমুলের হাতে এ অর্থ তুলে দেন।“-কথাটি বলছেন দিনমজুরি করে সংসারের ঘানি টেনেও কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার হালসা ডিগ্রি কলেজ থেকে মানবিক বিভাগ থেকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ লাভ করে অদম্য মেধাবী নাজমুল। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ১ম বর্ষের খ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে নাজমুল মেধা তালিকায় ৪৭৬ নম্বরে রয়েছে। চলমান………..

লেখক : মো: তৌহিদুর রহমান তাহসিন, ছাত্র ।

TT/AT

 

Comments are closed.

আরো সংবাদ