,



বাংলা ভাষার ব্যবহার আজ কোন পথে ?

মো: তৌহিদুর রহমান তাহসিন, বিশেষ প্রতিবেদক : গত চারশ বছরে আমাদের ভাষা ও সাহিত্যকে নিয়ে অনেক কিছু ঘটে গেছে । ভাষার বিবর্তন হয়েছে,রূপ বদল হয়েছে। বাংলা ভাষা পেয়েছে তার নিজস্ব স্বকীয়তা।  আমাদের বাংলা ভাষার ইতিহাসে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ যে ঘটনা তাহচ্ছে আমাদের ভাষা আন্দোলন। ১৯৫২ সালের সেই দুনিয়া কাঁপানো ভাষা আন্দোলন ছিল আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। ভাষার জন্য মানুষ প্রাণ দিতে পারে তা একসময় ছিল অকল্পনীয় কিন্তু আমরা বাঙ্গালি জাতি তাই করে দেখিয়েছিলাম। সেইদিন বাঙ্গালীর বুকের রক্তে ভিজে গিয়েছিল বাংলার মাটি সেই সাথে বাংলা ভাষাও। বাংলা ভাষার জন্য সেই আন্দোলনই আমাদের পথ দেখিয়েছিল একটি স্বাধীন ভূ-খন্ডের। কেননা ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙ্গালী জাতির মুক্তির আন্দোলন শুরু হয়।মাঝে মধ্যে অতিসামান্য অনুপাতে কেউ কেউ চমক দেখাবার জন্য বাংলা ভাষা নিয়ে কথা বলেছে বটে, তবে তা অতিনগণ্য মাত্রায়। একুশের ৬৫ বছর পেরিয়ে এসে, স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরও যখন বাংলা ভাষার এ দুরবস্থা দেখি, তখন এ সত্য আরও তীব্র-তীক্ষ্ণভাবে অনুভব করি যে- একটা সামাজিক বিপ্লব ছাড়া সত্যিকার অর্থে একুশের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

আজকে বাংলাভাষার এই দৈন্যদশার জন্য দ্বায়ী করবো আমাদের দেশের শিক্ষিত সমাজকে।মরার উপর খাড়ার ঘা হিসেবে আবার আমাদের দেশের প্রেক্ষাগৃহ গুলোতে ইদানিং অবাধে হিন্দি চলচ্চিত্র মুক্তি দেয়া হচ্ছে।অথচ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও কোন বিদেশী ভাষার চলচ্চিত্র মুক্তি দেয়া হলে সেটা হিন্দি ভাষায় অনুবাদ করে দেয়া হয়। জাপানি কার্টুন ‘ডরিমন’ ‘মোটু পাতলু’ ভারতে প্রচার করা হয় তাদের মাতৃভাষায় অথচ আমাদের দেশে কোমলমতি বাচ্চাদের এই কার্টুন হিন্দি ভাষায় দেখিয়ে ছোটবেলা থেকেই ভাষা সংক্রান্ত একটা জটিলতায় ফেলে দেয়া হচ্ছে। অধিকাংশ শিশুরাই এখন হিন্দি-বাংলা মিশ্রণে কথা বলে যা আমাদের ভাষার জন্য ভয়ানক হুমকি স্বরুপ।সবক্ষেত্রেই ব্যক্তির প্রচেষ্ঠা আসল৷ তাই পরবাসে বেড়ে ওঠা প্রজন্মকে নিজের পরিবার থেকে বাংলা ভাষার চর্চার অব্যাস করতে হবে৷ এভাবে এ চর্চা অব্যাহত থাকলে সেইদিন আর বেশি দূও নয় যেদিন হিন্দিও মতো বাংলা ও পরবাসে অন্যান্য দেশের নাগরিকরাও বলবে৷ সেদিন আসুক বাংলার ইতিহাসে সোনালী অক্ষরে৷ এ কামনা নিত্যদিনের৷

Comments are closed.

আরো সংবাদ