,



গোলাপগঞ্জে গাছে গাছে আমের মুকুল, ছড়াচ্ছে পাগল করা ঘ্রাণ

মোঃ রুবেল আহমদ, গোলাপগঞ্জ : ‘আয় ছেলেরা আয় মেয়েরা, ফুল তুলিতে যাই, ফুলের মালা গলায় দিয়ে, মামার বাড়ি যাই। ঝড়ের দিনে মামার দেশে, আম কুড়াতে সুখ, পাকা জামের মধুর রসে, রঙিন করি মুখ…।’

পল্লী কবি জসীম উদ্দিনের ‘মামার বাড়ি’ কবিতার পংক্তিগুলো বাস্তবে রূপ পেতে বাকি রয়েছে আর মাত্র কয়েক মাস। গাছে গাছে ফুটছে আমের মুকুল। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে এই মুকুলের পাগল করা ঘ্রাণ। বাতাসে মিশে সৃষ্টি করছে মৌ মৌ গন্ধ। যে গন্ধ মানুষের মনকে বিমোহিত করে। পাশাপাশি মধুমাসের আগমনী বার্তা শোনাচ্ছে আমের মুকুল।

সরেজমিন গোলাপগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকাতে ঘুরে দেখা যায়, আম গাছে শোভা পাচ্ছে কেবলই মুকুল। এ যেন হলুদ আর সবুজের মহামিলন। মুকুলে ছোঁয়ে আছে গাছের প্রতিটি ডালপালা। চারদিকে ছড়াচ্ছে সেই মুকুলের সুবাসিত পাগল করা ঘ্রাণ। এদিকে মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মুকুলে ভরে গেছে ব্যক্তি উদ্যোগে লাগানো আম গাছগুলো। তবে বড় আকারের চেয়ে ছোট ও মাঝারি আকারের গাছে বেশি মুকুল ফুটেছে। সেই মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে গাছের মালিকদের চোখে ভাসছে স্বপ্ন। তবে আমের ফলন নির্ভর করছে আবহাওয়ার ওপর।

দুলাল আহমদ নামের এক ব্যাক্তি জানান, প্রায় তিন সপ্তাহ আগে থেকে তাদের আম গাছে মুকুল আসা শুরু হয়েছে। বেশিরভাগ গাছ মুকুলে ছেয়ে গেছে। কিছু গাছে মুকুল বের হচ্ছে। তিনি আরো জানান, মুকুল আসার পর থেকেই গাছের প্রাথমিক পরিচর্যা শুরু করেছেন। মুকুল রোগ বালাইয়ের আক্রমন থেকে রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় ওষুধ স্প্রে ব্যবহার করছেন। বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। তিনি আশা করেন এ অবস্থা থাকলে এবার আমের বাম্পার ফলন হবে।

গোলাপগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খায়রুল আমিন জানান, গেলো তিন সপ্তাহ থেকে গাছে আমের মুকুল আসতে শুরু করেছে। মূলত আবহাওয়াগত কারনে দেশীয় জাতের গাছে এই আগাম মুকুল আসতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, এ সময় গাছে বসবাস করা হপার বা ফুদকী পোকা যারা মুকুলের ক্ষতি করে। এ পোকা দমনে বালইনাশক স্প্রে ব্যবহার করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ