,



সৌন্দর্যের লীলাভূমি সিলেটের কাঁঠালবাড়ী

  মোঃ রুবেল আহমদ, কাঠালবাড়ী থেকে ফিরে :  স্বচ্ছ সাদা পানি, পানিতে শাপলা  ফুল , পানির উপরে নীল আসমান, চারিদিকে থৈ থৈ জল, পানির মাঝে হিজল গাছ, কনচ গাছ, চতুর্দিকে উচু নিচু টিলা, টিলার বুকে রয়েছে ছোট-বড় বাড়ী, পাখ-পাখালির কলতান, সারি-সারি গাছ-গাছালি, খালবিল, পাল তুলা নৌকা আর নৌকায় মানুষের যাতায়াত, জেলেদের মাছ ধরা, দলবন্ধ হাঁসের অবাধ বিচরণ, এ সব মিলিয়ে এক একটা টিলা যেন একেকটা আলাদা আলাদা রাজ্য। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের যেন এক অপরুপ লীলাভূমি। এ যেন এক নয়নাভিরাম দৃশ্য। অপরুপ সৌন্দর্য ঘেরা এ স্থানটির নাম হচ্ছে কাঁঠালবাড়ী।

এটি সিলেট জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা কানাইঘাটের রাজাগঞ্জ ইউনিয়নে অবস্থিত। কাঠালবাড়ীতে রয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বেষ্টিত টিলা। প্রত্যকটি টিলা সত্যিই যেন আলাদা আলাদা একটি রাজ্য, একেকটি যেন আলাদা আলাদা দ্বীপ। যেখানে নেই কোন যাতায়াত ব্যবস্থা, নেই কোন শিক্ষাব্যবস্থা, নেই কোন সরকারী সুযোগ-সুবিধা। আছে শুধু ভ্রমনকারীদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পিপাসা মিটানোর অপরূপ দৃশ্য। কাঁটালবাড়ীর সঙ্গে অবশ্যই তুলনা চলে সিলেটের রাতারগুলের। কোন অংশেই যেন কম নয় কাঁঠালবাড়ী। কাঁঠালবাড়ির নয়নাভিরাম দৃশ্য বর্ষায় বড়ই অদ্ভুত এই জলের রাজ্য। কোনো গাছের কোমর পর্যন্ত ডুবে আছে পানিতে। একটু ছোট যেগুলো, সেগুলো আবার শরীরের অর্ধেকই ডুবিয়ে আছে জলে। কোথাও চোখে পড়বে মাছ ধরার জাল পেতেছে জেলেরা। ঘন হয়ে জন্মানো গাছপালার কারণে কেমন যেন অন্ধকার লাগবে টিলাগুলো। মাঝে মধ্যেই গাছের ডালপালা আটকে দিবে পথ। হাত দিয়ে ওগুলো সরিয়ে পথ চলতে হয়। বর্ষায় হাওরের স্বচ্ছ পানির নিচে ডুবে থাকা গাছগুলো দেখার অভিজ্ঞতা অপূর্ব।

কাঁঠালবাড়ীর নামকরণ : বৃটিশ আমল থেকেই কাঠালবাড়ীতে জনগণের বসবাস। তবে এরা কেউই এখানকার স্থায়ী বাসিন্দা নন। বিভিন্ন স্থান থেকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আসা লোকজন এখানে বসতী গড়ে তুলেছেন। বিশেষ করে রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের তালবাড়ী, বীরদল গ্রামের লোকজন সেখানে বসতী স্থাপন করেন। কেননা কাঠালবাড়ীতে এ দুগ্রামের জমি ছিল বেশি। পরবর্তীতে তাদের অনুসরণ করে অনেকই সেখানে পাড়ি জমান। তখন কাঠালবাড়ী এক একটি টিলায় ২৫-৩০টি কাঠালগাছ ছিল। সেই কাঠাল গাছের নামেই এখানকার নাম হয়েছে কাঠালবাড়ী। যদিও বর্তমানে আগের মতো আর কাঠাল গাছ নেই। ভৌগলিক অবস্থান : সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার রাজগঞ্জ ইউনিয়নের বোরহান উদ্দিন রোড সংলগ্ন রাজাগঞ্জ বাজার থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কাঠালবাড়ী। আবার কাঠালবাড়ী থেকে সিলেটের হরিপুরের দুরত্ব মাত্র ৫ কিলোমিটার কাঠালবাড়ীর পশ্চিম অংশে বড়হাওর, পূর্ব অংশে কালিজুড়ী, উত্তরে বেতকান্দি হরিপুর, দক্ষিণে রওয়া এবং রাঙ্গাউটি বিল।

যাতায়াত : সিলেট নগরী থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে কানাইঘাট গাজী বোরহান উদ্দিন রোড হয়ে রাজাগঞ্জ যেতে হয়। রাজগঞ্জ ইউনিয়নের বোরহান উদ্দিন রোড সংলগ্ন রাজাগঞ্জ বাজার থেকে গাজীপুর রাস্তা অথবা পারকুল রাস্তা হয়ে নৌকা যোগে পাড়ি দিতে হয় কাঠালবাড়ীতে। রাজাগঞ্জ থেকে গ্রামের আঁকা-বাঁকা রাস্তা দিয়ে প্রায় ৩০ মিনিট হেটে ইঞ্জিন নৌকা অথবা ডিঙ্গি নৌকায় পাড়ি দিতে হয় কাঠালবাড়ীতে। অথবা সিলেট নগরী থেকে হরিপুর হয়ে যাওয়া যায় কাঠালবাড়ী। এছাড়াও কানাইঘাট সদর থেকে গাছবাড়ী হয়ে বিভিন্ন পথে সেখানে যাওয়া যায়। গাছবাড়ী নারাইনপুর গ্রাম থেকে নৌকা যোগে, বাঁশবাড়ী থেকে নৌকা যোগে, শহরউল্লাহ হয়ে কাপ্তানপুর গ্রাম থেকে নৌকা যোগে যেতে পারবেন কাঠালবাড়ী। তাছাড়া গোলাপগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের স্থানীয় কারখানা বাজার থেকে ইঞ্জিন চালিত নৌকায় কাঠালবাড়ী যাওয়া যায়।

জনবসতী : কাঠালবাড়ীতে রয়েছে ৩০টির মত টিলা। এরমধ্যে ১৫-১৬টি টিলার মধ্যে বসবাস করে প্রায় ২৫টি পরিবার। কোন কোন টিলায় একটি মাত্র পরিবার আবার কোন কোন টিলায় ৩টি, ৪টি, ৫টি পরিবারও বসবাস করছেন। প্রায় ২০০ জন জনসংখ্যা, ৮০ জনের মত ভোটার, লুন্টির পাহাড় এবং কুচিয়া নামে ২টি মৌজা নিয়ে কাঠালবাড়ী অবস্থান।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ