,



দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর

মোঃ রুবেল আহমদ, সাদা পাথর থেকে ফিরে : যত দূর দৃষ্টি যায় দুদিকে সাদা পাথর, মাঝখানে স্বচ্ছ নীল জল আর পাহাড়ে মেঘের আলিঙ্গন। এ যেন প্রকৃতির এক স্বর্গরাজ্য। ওপারের মেঘালয়ের চেড়াপুঞ্জি থেকে নেমে আসা জলের স্রোত, যার নিচে সাদা পাথর। এসব ঘিরে এক অদ্ভুত সৌন্দর্যের ক্যানভাস।

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় মেঘালয়ের কোলঘেঁষা পর্যটন কেন্দ্র হচ্ছে সাদা পাথর। স্বচ্ছ শীতল জল আর সারি সারি পাথরে এ যেন এক অপরুপ সৌন্দর্যের আধার। এই পর্যটন কেন্দ্রকে ঘিরে পর্যটকদের আগ্রহ সারা বছরই। এবারের ঈদেও এর ব্যতিক্রম নেই। শহরের যান্ত্রিকতা থেকে মুক্তি পেতে সারা বছরই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন পর্যটকরা। বুধবার সিলেটের এই পর্যটন স্পটটি হয়ে ওঠে পর্যটকদের পদভারে মুখরিত। সারাদেশ থেকে সৌন্দর্য পিপাসু ভ্রমণ প্রিয় পর্যটকরা জড়ো হয়েছিলেন এখানে। কেউ বা পরিবার পরিজন নিয়ে আর কেউবা বন্ধু বান্ধবের সাথে। এভাবে সারাদেশের হাজারো পর্যটকের পদভারে মুখরিত হয়ে ওঠে নয়নাভিরাম এই সাদা পাথর পর্যটন স্পটটি।

সড়ক পথে সামনের দিকে যতই এগিয়ে যাবেন চোখের সামনে স্পষ্ট হবে মেঘালয় রাজ্য আর খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড়। রয়েছে ছোট-বড় পাহাড়, তার সঙ্গে মিশে আছে নীল আকাশের মেঘ। এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্যে পাথর তোলার হাঁকডাক আর গর্জনে ধলাই নদী পেরিয়ে ভোলাগঞ্জ বাজার। এর পরই চোখের সামনে স্পষ্ট হবে জিরো পয়েন্ট। জিরো পয়েন্টে যতই দৃষ্টি প্রসারিত হবে, চারদিকে পাথর আর পাথর। এখানে সব পাথর সাদা। রয়েছে সারিসারি পাথর তুলার নৌকাও। সামনের সবুজ পাহাড়, সঙ্গে গড়িয়ে আসা প্রচুর স্রোতের স্বচ্ছ শীতল জল। আর সে জল থেকে গড়িয়ে নামা সাদা পাথর। এ যেন প্রকৃতির নিজস্ব ক্যানভাস। সেই ক্যানভাস উপভোগ করতে প্রতিদিন পর্যটকরা ভিড় করে। সাদা পাথরের উপর দিয়ে প্রবাহিত স্বচ্ছ জলে মনের আনন্দেই সাঁতার কাটে পর্যটকরা। সব ক্লান্তি ভুলে মনের তৃপ্তি নিয়ে ফেরে পর্যটকরা।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আগে থেকেই নৌকা ভাড়া নির্ধারণ করে রাখায় পর্যটকদের তেমন একটা ভোগান্তিতে পড়তে হয় নি। এছাড়া ট্যুরিস্ট পুলিশের উপস্থিতি ও সীমান্তরক্ষী বিজিবির তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মত। বেশিরভাগ নৌকাতেই পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য লাইফ জ্যাকেট রাখা হয়। এছাড়া এই পর্যটন কেন্দ্রে আসার ক্ষেত্রে আগে সবচেয়ে বড় অন্তরায় ছিল সিলেট কোম্পানীগঞ্জ রাস্তার বেহাল দশা। সম্প্রতি এই সড়কটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহাসড়কে রুপ নেয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা আগের চেয়ে বহুগুণ উন্নত হয়েছে। সিলেট শহর থেকে মাত্র ৪০ মিনিটেই পৌঁছে যাওয়া যায় এখানে।

গোলাপগঞ্জ উপজেলা থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক স্বেচ্ছা সেবক পাঠশালার সাধারণ সম্পাদক ছাদিকুর রহমান জানান, আমার সংগঠনের সকল সদস্যদের নিয়ে বেড়াতে আসার জন্য সাদা পাথর জায়গাটি আমার প্রিয় পর্যটন স্পট হিসেবে বেছে নিয়েছি। এই সাদা পাথরে এসে আমাদের খুব ভালো লেগেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ