,



Mandatory Credit: Photo by Kristin Callahan/ACE Pictures/REX/Shutterstock (10199949d) Priyanka Chopra Priyanka Chopra out and about, New York, USA - 11 Apr 2019

প্রিয়াঙ্কাকে সরাতে পাকিস্তানের চিঠির জবাব দিলো জাতিসংঘ /Times Tribune

টাইমস ট্রিবিউন ডেস্ক :: গত ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনা। ভারতীয় অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া একটা টুইট করলেন। মাত্র দুটো শব্দ। ‘জয় হিন্দ’। হ্যাশট্যাগ ভারতীয় বিমানবাহিনী। ব্যাস, বিতর্ক আর জটিলতার শুরু এখান থেকেই!

এর আগে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারত অধিকৃত জম্মু-কাশ্মিরে বোমা হামলায় ৪৯ জন পুলিশ নিহত হন। এর বিপরীতে ২৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের অভ্যন্তরে হামলা করে ভারতের বিমানবাহিনী। তারই পরিপ্রেক্ষিতে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার এই টুইট। অথচ প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত।

এই ঘটনায় প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূতের দায়িত্ব থেকে বহিষ্কারের দাবি জানায় পাকিস্তান। প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে অপসারণের দাবির সেই আবেদনে স্বাক্ষর করেন পাকিস্তানের হাজার হাজার নাগরিক। এই আবেদন অনলাইনে প্রকাশ করে ইউনিসেফ আর জাতিসংঘকে ট্যাগ করা হয়। বলা হয়েছে, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া যুদ্ধকে উৎসাহ দিয়েছেন। দুটি পারমাণবিক শক্তিসম্পন্ন দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুধু ক্ষতি আর মৃত্যুই ডেকে আনবে। ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার নিরপেক্ষ থাকা উচিত। কিন্তু তিনি ভারতীয় বিমানবাহিনীর পক্ষে টুইট করেছেন। তাই তিনি আর শুভেচ্ছাদূত থাকতে পারেন না।

এত দিন পর্যন্ত এই ঘটনায় প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, ইউনিসেফ বা জাতিসংঘের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। কিন্তু নীরবতার পাঁচ মাস পর সম্প্রতি জাতিসংঘের কাছে কঠোর ভাষায় লেখা একটা চিঠি পাঠান পাকিস্তানের মানবাধিকারবিষয়ক মন্ত্রী শিরিন মাজারি। চিঠিতে তিনি বলেন, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া নিরপেক্ষতা ভঙ্গ করেছেন। তাই তিনি কোনোভাবেই আর ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত থাকতে পারেন না। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, জাতিসংঘের শুভেচ্ছাদূত মিসেস প্রিয়াঙ্কা চোপড়া কাশ্মির ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সংকটে মোদি সরকারের পক্ষ নিয়েছেন। যে মোদি সরকার কাশ্মিরে মুসলমানদের জাতিগতভাবে নির্মূলের কাজ করছেন।

শিরিন মাজারি ওই চিঠিতে আরও জানান, মোদি সরকারের কর্মকাণ্ডের সাথে হিটলারের নাৎসি বাহিনীর মতাদর্শের মিল পাওয়া যায়।

শিরিন মাজারি চিঠিটি শেষ দিকে বলেছেন, ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পাকিস্তানকে পরমাণু হামলার হুমকি দিয়েছে। সেটিকেও সমর্থন জানিয়েছেন তিনি, যা কোনোভাবেই একজন শুভেচ্ছাদূতের আচরণ হতে পারে না। তাই অবিলম্বে তাকে এই পদ থেকে অপসারণ করা না হলে বিশ্বব্যাপী এই পদের মর্যাদা ও গুরুত্ব ক্ষুণ্ন হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ পদকে সবাই ঠাট্টার বস্তুতে পরিণত করবে।

এত ঘটনার পর এবার এসেছে জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি। রায় সাবেক বিশ্বসুন্দরী ও বিশ্বতারকা প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার পক্ষে। ই–টাইমসের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তেনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেছেন, প্রত্যেক মানুষ তার আগ্রহের বিষয়ে মতপ্রকাশ করার অধিকার রাখে। তাদের ব্যক্তিগত মতামত বা কর্মকাণ্ড ইউনিসেফকে সব সময় প্রভাবিত করবে না। প্রিয়াঙ্কা যদি ইউনিসেফের পক্ষ হয়ে কোনো মন্তব্য করতেন, তখন সেটি তার পদকে প্রভাবিত করত।

tt/f

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ