,



গোলাপগঞ্জের ফুলবাড়ী ইউপির কৃতি সন্তান কবি মান্না’র জীবনী | Times Tribune

ফাহিম আহমদ, গোলাপগঞ্জ :: বাংলার কবি মান্না।যার দু’চোখ জুড়ে মানবতায় ভরপুর। কখনো কোন ভালো ও সামাজিক কাজে পিছু হাঁটেননি।যিনি সব সময় মানুষের সেবায় নিজেকে উৎস্বর্গ করে রেখে যেতে চান।বাবাহারা মা ও একমাত্র বড় বোনকে নিয়ে তারই বসবাস।মায়ের দোয়া সহ সবার ভালোবাসায় আজ যিনি কবি হিসেবে দেশ-বিদেশে পরিচিতি লাভ করে চলেছেন।

বলছি সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ৩ নং ফুলবাড়ী ইউপি’র ৯ নং ওয়ার্ডের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া মান্না আহমদের কথা। তিনি ১৯৯৬ সালের ১লা ডিসেম্বর জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মরহুম মাখন মিয়া ও মাতার নাম মোছাঃ ফাতেমা বেগম। এক বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি কনিষ্ঠ । স্বপ্ন ছিল পড়ালেখা করে একজন বড় আর্টিষ্টার হবেন।কিন্তু পিতা মারা যাওয়ার পর সেই স্বপ্ন নিমিষেই শেষ হয়ে যায়। তিনি ২০১২ সালে শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী ফুলবাড়ী আজিরিয়া আলিয়া ফাযিল ডিগ্রি মাদরাসা থেকে দাখিল পরীক্ষা উত্তীর্ণ হোন, কিন্তু সে ভাগ্যটুকু হয়নি, জীবিকার তাগিদে প্রবাসে পাড়ি জমান। সেই থেকে প্রবাস জীবন শুরু।

কবি মান্না আহমদের সাথে কথা হলে তিনি টাইমস ট্রিবিউনকে জানান, আমি একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান।আমি অভাবের তাড়নায় বেশি দূর পড়ালেখা করতে পারিনি।আমার জীবনে অনেক স্বপ্ন ছিল।কিন্তু বাবা মারা যাওয়ার পর সেই স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়।কিন্তু আমি জীবনে প্রতিজ্ঞা করি টাকা পয়সার কারণে যাতে গরিব মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখা নষ্ট না হয় সেদিকে আমি বিশেষ ভাবে নজর রাখব।আমি জীবনে আপনাদের দোয়াতে এখন যে অবস্থানে আছি সেটাই অনেক কিছুই আলহামদুলিল্লাহ।

তিনি সূদর প্রবাসে থেকে ও অনেক ব্যস্ততার মাঝে অসহায় গরীব দুঃখী মানুষের খুঁজে থাকেন।ইতিমধ্যে তিনি বেশ কিছু উন্নয়ন মূলক কাজ করেছেন। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে ভালো কাজে উৎসাহ প্রদান ও আর্থিক ভাবে সহযোগীতা করেছেন।এই বছরের “অামরা ফুলবাড়ীর হেল্পার ” সভাপতির দায়িত্ব থেকে গ্রামের মানবতার কাজে একধাপ এগিয়ে রাখছেন এবং ফেব্রুয়ারিতে মানবতার সংগঠন “ফুলবাড়ী ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন” এর স্বেচ্ছাসেবী মিলন মেলায় সংগঠনের বেশ কিছু অনুদান দিয়েছেন।শুধু তাই না অন্যান্য সংগঠন- ও সামাজিক কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন,কখনো কাওকে সাহায্যে করতে গিয়ে কখনো প্রকাশ্য সামনে আসতে চাননি। সাদা মনের একজন মানুষ বললেই চলে।

তিনি ২০১৮ সালের ১০ নভেম্বর সিলেট কবি পরিষদ (সিকপ) নামে একটি সাহিত্য সংগঠনের যাত্রা শুরু করেন।যার মধ্যে দিয়ে তিনি এখন দেশ-বিদেশে বহুল আলোচিত।যিনি ফুলবাড়ী গ্রামে সবার নজরে “বাংলার কবি মান্না” নামে পরিচিত।এবং অন্যান্য স্থানে কবি মান্না নামে নিজেকে দাঁড় করিয়ে নিয়েছেন, বর্তমানে তিনি একজন সফল লেখক হিসেবে নিজেকে অন্য উচ্চতায় তুলে ধরেছেন।খুব কম সময়ে” সিলেট কবি পরিষদ “আজ আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছে। ওনার সঙ্গে আছেন বর্তমানে সিলেট কবি পরিষদ’র সভাপতি কবি আব্দুছ ছালাম চৌধুরী।ইতিমধ্যে তিনি ৯ টি যৌথ প্রযোজনায় কবিতার বই ও সিকপের শত কবি শিরোনামে বইটি সম্পাদনা করেন।

জীবনে স্বপ্ন ছিল একজন বড় আর্টিস্টার হবেন,কিন্তু সেই আশা পূরণ হয়নি।কিন্তু জীবনের চাকা ঘুরে অন্য কিছুতে মন দিয়ে আজ সাহিত্য অঙনে নিজের অবস্হান এই পর্যন্ত দখল করে রেখেছেন।

প্রবাসে শত ব্যস্ততা থেকেও বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি কে বুকে ধারণ করে, নিজেকে তিনি বাংলা ভাষার প্রতি টান রেখে ইতিমধ্যে দু হাজারের মত কবিতা  লিখেছেন, এর পাশাপাশি তিনি নিজেকে অাগামীতেও অারো বেশি বাংলা সাহিত্যের প্রতি সম্পৃক্ত রাখতে চান।

TT/F

Comments are closed.

আরো সংবাদ