,



৭১ স্বাধীনতা সংগ্রামে আলীনগর গ্রামের ভুমিকা

এম এ হুসাইন : ভারত উপমহাদেশে মুসলিম সভ্যতা ও স্বাধীনতা মোঘল সাম্রাজ্যের পতনের মূল কারণ বিশ্লেষণ করলে জানা যায় মোঘল সম্রাট গন রাজ্যের নিরাপত্তা সুরক্ষার বিষয়ে সীমাহীন উদাসীন  হয়ে পড়েন। মুলত সেই সময় তারা প্রমোদ ভালা, নর্তকী বিলাসী জীবন নিয়ে মগ্ন ছিলো। দেশের শান্তি শৃঙ্খলা বহিঃশক্তির মুহুর্মুহু আক্রমণ হতে বিশাল সাম্রাজ্য কে সুরক্ষা করার বিষয়ে তারা দারুণ ভাবে উদাসীন হয়ে পড়েন।
রাজ সিংহাসনের উত্তর সুরীরা বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে
ক্ষমতা কুক্ষিগত করবার সীমাহীন অন্তর  দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়ে যায়। ইংরেজ জাতির অতীত ইতিহাস ঐতিহ্য নিয়ে গবেষণা করলে জানা যায় সেই ইংরেজ জাতির অর্থনীতি জীবন জীবিকা ছিলো সমুদ্রে কে কেন্দ্র করে। সেই ইসা নবীর সময় হতে সমুদ্রে জাহাজ দিয়ে মৎস্য স্বীকার করা ছিল তাদের একমাত্র জীবন জীবিকা।
 সাগর উপকূলে বসবাসকারী মৎস্য জীবি জাতি অাস্তে অাস্তে হাঁটি হাঁটি পা পা করে সমুদ্র বাণিজ্য পরিকল্পনা গ্রহণ করলো। ভারত উপমহাদেশে সিংহাসন দখলের স্বপ্ন নিয়ে একটি শক্তিশালী চক্র হিসেবে
কালের পরিক্রমায় যুগের পরিবর্তনে বঙ্গপসাগরে এসে উপস্থিত হয়। এবং বাণিজ্য করার অনুমোদন নিয়ে ভারত উপমহাদেশে অনুপ্রবেশ করে।
মুসলমানদের রাজ সিংহাসন নড়বড়ে পেয়ে কিছু সংখ্যক সিংহাসন লোভী বিশ্বাসঘাতক মুসলমানদের কুমন্ত্রণা  সহায়তা নিয়ে তারা মোঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্দন্দের মধ্যে ডুকে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ইংরেজ  জাতি ১৭৫৭ সালে বাংলার নবাব সিরাজুদ্দৌলা কে নাটকীয় ভাবে  পরাজিত করে সিংহাসন দখল করে। এবং তারই ফলশ্রুতিতে
বাংলার স্বাধীনতার  লাল সূর্য অস্তমিত হলো পলাশীর
অাম্র কাননে  । শুরু হলো বৃটিশ বিরোধী অান্দলোন সংগ্রাম। তখন এই বৃটিশ বিরোধী  স্বাধীনতা সংগ্রামে  নেতৃত্ব দেন হাজী শরিওত উল্লা মৌলানা ভাসানী কুদিরাম সহ অনেক বীর দেশপ্রেমিক।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য সেই সময় একশ্রেণীর পদ লোভী স্বার্থ লোভী মুসলমান  ইংরেজ  জাতির কৃতদাস হিসেবে পরিনত হলো। ততকালীন ঐতিহাসিক গনের পরিভাষায় এরা স্বাধীনতা বিরোধী বৃটিশ রাজাকার অালবদর। বৃটিশ সরকার এদের কে  বৃটিশ বিরোধী স্বাধীনতা  অান্দলোন কে নির্মুলের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছিল। তার বিনিময়ে ইংরেজ জাতি সোনার বাঙলায় এক মায়ের সন্তান কে বিভিন্ন জাত বিভিন্ন বংশের রুপান্তর করলো এবং সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা ভূখণ্ড কে খন্ড বিখন্ড করে তাদের কে সেই ভুখন্ডের খাজনা অাদায় কারী হিসাবে দায়িত্ব দেয়। এবং বিভিন্ন রকমের উপাধী বিভিন্ন রকমের ভুয়া
 লকব দিয়ে সামপ্রদায়িক, সামাজিক পার্থক্য সৃষ্টি করে
একটি জাতির ঐক্য শক্তি কে দূর্বল করে।
আপনারা জানেন সেই বৃটিশের দালাল চক্র ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকার অালবদর বাহিনীর চাইতে নজীর বিহীন জুলুম নির্যাতন করে  সোনার বাংলার স্বাধীনতা কামী ভারতের মুসলমানদের উপর। কবি নজরুল ইসলাম সেই করুন চিত্র তুলে ধরে “নীল খেত ” রচনা করেছিলেন। সেই দীর্ঘ ইতিহাসের এবং বৃটিশ রাজাকার এবং পাকিস্তান রাজাকার এর
বৈশিষ্ট্য ও  গুণাবলি এবং তারতম্য কে অালোচনা ও পর্যালোচনা করে  বিচার বিশ্লেষণ করে ঐতিহাসিক গন এদের কে মুসলিম জাতির স্বাধীনতা বিরোধী শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
সেই করুন কাহিনী কে বুকে লালন করে ১৯৫২ সালে বাংলার শ্রম জিবি মানুষের বলিষ্ঠ কন্ঠ স্বর শেরে বাংলা এ কে এম ফজলুল হক জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত করে অবিস্মরণীয় ইতিহাস সৃষ্টি করেন। সেই ধারাবাহিকতা কে বুকে লালন করে তরুণ প্রজন্মের উদীয়মান এক জন কালো জয়ী বীর পুরুষ শেখ মুজিবুর রহমান উদিত হলেন ২৫০ বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ
সাড়ে সাত কোটি পরাধীন জাতি কে মুক্ত করার জন্য।
১৯৭১ সালে পাকিস্তানের উপনিবেশ বাদী শাসন শোষণ নিপীড়ন নির্যাতন হতে মুক্তির জন্য তিনি  অাবার ডাক দিলেন সেই স্বাধীনতা সংগ্রামের।
তখন সেই বৃটিশ রাজাকার অালবদর গোষ্ঠীর মতো পাকিস্তানের দালাল চামচা রাজাকার অালবদর গোষ্ঠী স্বাধীনতা বিরোধী ভূমিকা পালন করে। পাকিস্তানের জালিম সেনাবাহিনীর মাধ্যমে নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালি কে
নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করে। মা বোন কে পাকিস্তানের জালিম সেনাবাহিনীর যৌন লালসা পোরনের পাত্র হিসেবে ব্যবহার করে। এখন সেই রাজাকারের উত্তর সুরী গন বলে অামরা দেশপ্রেমিক বীর মুক্তিযোদ্ধা ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হলো নতুন প্রজন্ম সঠিক তথ্য ইতিহাস জানেনা। অনেক কিছু বিকৃত বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
কালের গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়া কাহিনী ও ভূমিকা নিয়ে গবেষণা করলে জানা যায় যে এই বৃহত্তর অালীনগর গ্রামের যে কয়েকটি পরিবার মুক্তি যুদ্ধের সময় বীর সাহসী ভূমিকা পালন করছে তার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হলো অান্তর্জাতিক মানবতাবাদী সংস্থা এজিঅাইসিও এর পরিবার। অালীনগর ইউনিয়নের মাটি ও মানুষের সেবক রাজনীতিবিদ জননন্দিত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এম এ গণি মিয়ার ভূমিকা ছিলো চিরস্মরণীয়। তিনি অালীনগর ইউনিয়নের মাটি ও মানুষ কে পাক হানাদার বাহিনীর জুলুম নির্যাতন হতে হেফাজত করেছিলেন। তার পাশাপাশি তিনি মুক্তি যুদ্ধের সংগঠক হিসেবে কাজ করেন।
উল্লেখ্য মরহুম হাজী গণি মিয়ার পিতা মরহুম সলিম উল্লা উর্ফে সলিম মিয়া সেই  বৃটিশ বিরোধী অান্দলোন
সামাজিক বৈষম্য বিরোধী অান্দলোনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। সেই সলিম মিয়ার নীতি অাদর্শ কে বুকে লালন করে তিনির উত্তর সুরী বীর সাহসী সন্তান গন।
সেই পরিবারের বহু লোক ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সামরিক বাহিনী তে চাকরি করতেন।
১৯৭১ সালে স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হলে সেই পরিবারের চার জন হাবিলদার মুক্তি যুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর জেনারেল ওসমানী সাহেবের নেতৃত্বে মুক্তি যুদ্ধ করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে  এই পরিবার থেকে হাবিলদার মোহাম্মদ অালী হাবিলদার এম এ মালিক হাবিলদার অাছদ্দর অালী তুমুল যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েন। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৫ সালে স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকার অালবদর গোষ্ঠীর একটি শক্তিশালী চক্র এই পরিবারের সাবেক ইপিঅার বীর সৈনিক এম এ রহমান কে রাতের অন্ধকারে গুলি করে শহীদ করে।
জানা যায় শহীদ এম রহমান সাবেক ইপিঅার ১৯৬৫ সালে ভারত সীমান্ত যুদ্ধে জেনারেল ওসমানী সাহেবের নেতৃত্বে বীর সাহসী ভূমিকা পালন করেন। এই যুদ্ধে ভারতের সামরিক বাহিনী পারাজিত হয়েছিল। উল্লেখ্য জেনারেল ওসমানী সাহেব তিনির বীরত্বের উপহার স্বরূপ গোল্ড মডেল প্রদান করেন। তার পরে তথ্য অনুসন্ধান করে জানা যায় যে অালীনগর গ্রামের মরহুম মনা মাষ্টার পন্ডিত সাহেবের দুই ছেলে ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সামরিক বাহিনীর চৌকস অফিসার ছালিক মিয়া এবং খালিক মিয়া কে ঢাকা পিলখানা তে ২৬ মার্চ কালো রাত্রি তে পাক হানাদার বাহিনী হত্যা করে।
তথ্য সূত্র মতে জানা যায় অালীনগর গ্রামের  মরহুম অারব  অালী ইপিআর ঢাকা পিলখানায় ২৬ মার্চ কালো রাত্রি তে পাক হানাদার বাহিনীর হাতে শহীদ হন।
এই গ্রামের এবং এই ইউনিয়নের সকল সামরিক বেসামরিক মুক্তিযুদ্বা এবং তাদের পরিবার কে নিয়ে  মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক একটি স্মৃতি চারণ মূলক স্বরণীকা প্রকাশ করতে অাপনাদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করি।

Comments are closed.

আরো সংবাদ