,



এম এ হুসাইন’র কবিতা “স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা”

স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা

এম এ হুসাইন

 
মহান সৃষ্টি কর্তা কে অসংখ্য অগণিত

শুকরিয়া জানাই!

তিনি আমাকে নিরাকার হতে আকার দান করলেন!

এক পিন্ড রক্ত হতে তিনি আমাকে অপূর্ব মানব রুপে

রুপান্তর করলেন!

“লাকাদ খালাকনাল ইন্ন ছা না ফি

আহ সানী তাকওইম”

এই পৃথিবীতে আসার জন্য

মায়ের গর্ভে ১০ মাস লালন পালন করলেন

তখন রুপকথার কল্প কাহিনী শুনালেন!!

বললেন শুনো এখন তুমি যে মা নামক উপগ্রহে

বসবাস করছো। এই আরামের জগৎ

হতে তুমি ১০ মাস পরে চলে যাবে

এমন একটি অকল্পনীয় জগতে

সেই জগৎ এর চেয়ে

কোটি কোটি গুণ বড় হবে!

তখন আমি অবাক হয়ে শুনতাম সেই

অকল্পনীয় জগতের কথা!!

সেখানে তুমি পাবে অসংখ্য অগণিত নিয়ামত!!

আমি তখন বলতাম তা কেমন করে হবে!!

এটা তো অকল্পনীয় একটা কথা!!

আমি এই জগৎ কে ভালো বাসি! এখানে

আমি অতি সুখসাচ্ছন্দ্যের মাঝে আছি!!

আমি সেই জগতে যেতে চাই না!

সৃষ্টির স্রষ্টা বলেন!

ইন্না মা আমরুহু ইজা আরদা সাইয়া’

আই’য়া কু লা লা হু কোন ফাইয়া কুন।।

কোন চিন্তা নেই তুমি সেখানে

সব কিছু সাজানো গুছানো অবস্থায় পাবে!

কোন চিন্তা নেই!

আমি তুমাকে আমার শ্রেষ্ঠ নিয়ামত

তোমার জন্য মাতা ও পিতা দান করবো

এদের স্নেহ মমতা ভালবাসা দিয়ে তুমাকে

লালিত পালিত করবো!!

তখন আমি মনে মনে ভাবতাম অারে বাবা

এ কেমন কল্প কাহিনী!!

সৃষ্টি কর্তা বলেন দেখবা!

মায়ের গর্ভের জীবনে যেমন অামি তুমাকে

অক্সিজেন সরবরাহ করে খাদ্য

সরবরাহ করে অতুলনীয় ইন্টেনসিভ কেয়ারে

লালন পালন করতেছি! সেখানে ও অামি তুমাকে

তার চেয়ে অনেক বেশি সুখ সমৃদ্ধি দান করবো।

যদি তুমি আমার নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করো!

সেই জীবন থেকে পরে তুমার মৃত্যু হবে!!

তার পরে তুমি অাখেরাতের জীবন উপভোগ করবে

কিয়ামত হবে হাশর হবে মিজান হবে তার পরে

তুমি অনন্ত এক জীবন পাবে সেখানে কোন মৃত্যু নেই

কোন শেষ নেই!!

তুমার জন্য এর চেয়ে অকল্পনীয় একটি জগতের মাঝে

নিয়ে যাবো। সাতটি দুজখ আট টি বেহেস্ত তৈরী করে

রেখেছি অামি একটা বেহেস্ত এই পৃথিবীর হতে দশ গুণ বড় হবে তুমার জন্য সেখানে ফুল ফলের বাগিচা

সাজানো গুছানো অবস্থায় থাকবে!!

অত এব হে মানব সন্তান!!

ফাজ কুরুনি আজ

কুরুকুম ওয়াস কুরুলী ওলা তাক ফুরুন!!

আর যেনে রেখো!

“লা ইন শাকার তুম লা আজিদান্না কুম লা ইন কাফার তুম ইন্না আজাবি লা শাদিদ ”

অত এব আমি আমার সৃষ্টি

কর্তার কোন নিয়ামত

কে অস্বীকার করতে পারি!!

“ফা বি আই ই আলা রাব্বিকু মা তুকাজ্জিবান”

তিনি আমাকে সিরাতুল মুসতাকিম

উপহার দিলেন!!

অামি কি করে তিনির সেই নিয়ামত কে

অস্বীকার করি!

ফা বি আই ই আলা ই রাব্বিকু মা তুকাজ্জিবান।।

তিনি আমাকে কুন. তুম খাইরা উম্মাতি

হিসেবে সম্মাননা দান করেলেন!!

সর্ব শ্রেষ্ঠ নবী সর্ব যুগের সর্ব কালের রাসুল সঃ এর

উম্মত হিসাবে মর্যাদা দান করলেন!!

অত এব আমি কি করে তিনির

নিয়ামত কে অস্বীকার করি!!

ফা বি আই ই আলা ই রাব্বিকু মা তুকাজ্জিবান।।

তার পরে সর্ব কালের সর্ব যুগের অাসমানী কিতাব

অাল কোরআন দান করেলেন!!

তার পর ও কি আমি সন্তুষ্ট নই?

নিশ্চয়ই আমি সন্তুষ্ট নিশ্চয়ই অামি কৃতজ্ঞ!!

এখানেই শেষ নয়!!

অফুরন্ত অপরিসীম ভালবাসা দিয়ে

তিনি অক্সিজেন সাপ্লাই করলেন!! উদ্ভিদ দিয়ে

অক্সিজেন হাইড্রোজেন চক্র সৃষ্টি করলেন।

যাতে প্রাণী জগৎ বেঁচে থাকতে পারে!!

নাইট্রোজেন চক্র সৃষ্টি করে গুটা বিশ্ব কে

সাজালেন এক অপরুপ মহিমায়!!

অাফা লা ইয়ান জুরু ওয়া ইলা সা মা অা

ফাও কাহুম কাইফা বানাই না হা… ওয়া

যাইয়ানা হা…. ওয়া মা লাহা…মিন ফুরুজ!!

ওয়াল অারদা মা দাদ নাহা … ওয়া অাল কাইনা…

ফি হা রাওয়া ছিআ ওয়া আ ম বা তানা…

ফি হা মিন কুল্লি যাও জিন বাই জ’।।

তাব চিরাতাং ওয়া জিকরা লি কুল্লি

অাব দিং মু নিব।।

এর পর ও কি আমি সন্তুষ্ট নই!!

ফা বি আই ই আলা ই রাব্বিকু মা তুকাজ্জিবান।।

তার পরে সুর্য চন্দ্র আকাশ সৃষ্টি করলেন!!

বলেন! সুম মার জি ইল বাছারা কারা তাইনি

ইয়ান কা লিব ইলাইকাল

বাসিরু খা… সিয়া..

ওয়াহুয়া হাসির।।

এর পর ও কি আমি সন্তুষ্ট নই?

ফা বি আই ই আলা ই রাব্বিকু মা তুকাজ্জিবান।।

ওয়াস সামসু ওয়াল কামারু বি হুস বান

ওয়ান নাজমু ওয়া স সাজারু

ইয়াস জুদান।।

অত এব আমকি  করে তিনির

নিয়ামত কে অস্বীকার করি!!

ফা বি আই ই আলা ই রাব্বিকু মা তুকাজ্জিবান।।

এখানেই কি শেষ!!

তিনি পিতা মাতার আদর যত্নে অকৃত্রিম ভালবাসা দিয়ে

বড় করলেন একটি স্বর্গীয় পরিবেশে!!

আমি কি করে সেই নিয়ামত কে অস্বীকার করি!!

ফা বি আই ই আলা ই রাব্বিকু মা তুকাজ্জিবান।।

এর সাথে স্ত্রী সন্তান দান করলেন!

সুখ সমৃদ্ধি মান মর্যাদা দান করলেন!!

এখন কি করে সেই নিয়ামত কে অস্বীকার করি!!

অত এব হে পরওয়ারদিগার

কবি নজরুল ইসলামের মতো

বলি….

রোজ হাশরে… আল্লাহ আমার

করো না বিচর হে পরওয়ারদিগার

বিচার চাহিনা আমি চাই করুণা তুমার!

আমিন।

“আল্লাহ হুম্মা হা সিব নী

হিসা বাই ইয়াসিরা ”

“সুবহানাকা ইলমা লানা ইল্লা মা আল্লাম তানা

ওয়া আলা হি তাওক্কাল তু ওয়া ইলাহি ম মুনিব ”

 

লেখক : এম এ হুসাইন, প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক                    টাইমস ট্রিবিউন।

Comments are closed.

আরো সংবাদ